নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের সঙ্গে দৃঢ় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি ইতালির রোমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এই আগ্রহের কথা জানান।
রোববার রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘প্রথম অর্থনৈতিক কূটনীতি’ সপ্তাহ পালনের অংশ হিসেবে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ম্যাপিং অনুশীলন: বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ইতালি, মন্টেনিগ্রো ও সার্বিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সেতুপদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সংবাদ উপস্থিত সবাইকে জানান।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, দু’দেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেগুলো কাজে লাগিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতিশীলতা আনয়নে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের সচিব (পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। ফুড প্রসেসিং, কৃষি, প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র বের করে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান জিয়ানপাওলো নেরি বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দু’দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ়তর করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র, সম্ভাবনা ও সুযোগ সুবিধাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে দু’দেশের মধ্যে একটি ‘বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি ইতালির বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ এবং দুদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে একযোগে কাজ করবেন বলে জানান।
টেক্সটাইল, চামড়া শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি এবং ফুড প্রসেসিং, ফুড রিটেলিং এবং বেকারি, আইসিটি, সিরামিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাট এবং পাটজাত পণ্য, সোলার মডিউল, সুনীল অর্থনীতি, রোবোটিকস, স্বাস্থ্য সেবা খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ইত্যাদি খাতগুলোকে দু’দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের মহাপরিচালক, ইপিবির মহাপরিচালক, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বেসিস এলএফএমইএবি, এপেক্স ফুটওয়্যার এর প্রেসিডেন্ট এবং ওয়াল্টন, ই-ক্যাবের প্রতিনিধিরা এবং ইতালির পক্ষে নিউ দিল্লিতে অবস্থিত ইতালির দূতাবাসের ট্রেড কমিশনার, ইটা, কনফিন্ডাস্ট্রিয়া, এআইসিই, রিফলাইন, এনি, মাগালদি পাওয়ার, ডিএম ইটালিয়ারের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
নেপোলি ও ফ্লোরেন্সে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেলরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দুই দেশের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা আলোচনায় তুলে ধরেন।
ইতালির পক্ষে এনি, লিওনার্দো, মাগালধি পাওয়ার, রিফলাইন, ব্রাচি, ইডিওজি, ডিএম ইটালিয়া এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ, এপেক্স, ওয়ালটনের প্রতিনিধিরা তাদের আশাবাদ এবং নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
হাইব্রিড ফরমেটে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সবাই একমত হন যে এটি দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
ইতালি-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ইতালি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম রফতানি বাজার।
Leave a Reply